
জন্ম ও শৈশব: শহীদ কাদরী unishoto biallish সালের choddoi আগস্ট ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি সপরিবারে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) চলে আসেন এবং ঢাকাতেই তাঁর কবিসত্তার বিকাশ ঘটে। কাব্যধারা ও স্টাইল: পঞ্চাশের দশকের কবিদের মধ্যে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি নাগরিক জীবনকে কবিতার উপজীব্য করেছিলেন। তাঁর কবিতায় ফুটে উঠত ইট-পাথরের শহরের রুক্ষতা, যন্ত্রসভ্যতার ক্লান্তি এবং মানুষের অন্তর্নিহিত হাহাকার। তবে তার এই বিষাদ কেবল নেতিবাচক ছিল না; বরং তা ছিল এক তীব্র বৌদ্ধিক এবং শৈল্পিক প্রকাশ। বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ: শহীদ কাদরী তাঁর জীবদ্দশায় খুব বেশি বই লেখেননি, কিন্তু যে অল্প কয়েকটি প্রকাশ করেছেন, তা-ই তাঁকে অমর করে রেখেছে: উত্তরাধিকার (১৯৬৭): তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যা তাঁকে রাতারাতি খ্যাতি এনে দেয়। তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (১৯৭৪): এটি তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কাজ, যেখানে যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে ভালোবাসার জয়গান গাওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই (১৯৭৮): একাকীত্ব ও নির্বাসনের ছায়া এতে স্পষ্ট। আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯): দীর্ঘ প্রবাস জীবনে থাকার পর প্রকাশিত গ্রন্থ। নির্বাসন ও প্রবাস জীবন: ১৯৭৮ সাল থেকে শহীদ কাদরী স্বেচ্ছায় নির্বাসিত জীবন বেছে নেন। তিনি বার্লিন, লন্ডন ও সবশেষে আমেরিকার বোস্টন ও নিউইয়র্কে বসবাস করেন। নির্বাসনের এই দীর্ঘ সময় তাঁর কবিতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল—মাতৃভূমি থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা এবং বিশ্বজনীন এক নিঃসঙ্গতা। পুরস্কার ও সম্মাননা: বাংলা সাহিত্যে তাঁর অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশের নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন: বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩) একুশে পদক (২০১১) মহাপ্রয়াণ: ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি কবি। পরে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে এনে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। "তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, ভয় নেই, আমি আছি, আর্মি উল্টে দেবে না কোনো সুন্দর বাগান—" শহীদ কাদরী চলে গেলেও তাঁর এই অসামান্য পঙক্তিগুলো প্রতিটি কাব্যপ্রেমীর হৃদয়ে আজীবন প্রতিধ্বনিত হবে।

