
লোকে জিজ্ঞেস করে— তোমার কবিতায় এত বিষণ্ন রঙ কেন আজকাল? কোনো জবাব দিই না। বলব কি পিকাসোর উত্তরটি? তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। পিকাসো প্যারিসে তাঁর স্টুডিওয়। স্পেনের একটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেল জার্মান বোমা বর্ষণে। গোয়ের্নিকা। পিকাসো সেই বিধ্বংস গ্রামের ছবি আঁকলেন ক্যানভাসে। জার্মান সৈনিকরা প্যারিসে ঢুকে পড়ল একদিন। স্টুডিওয় ঢুকে পিকাসোকে জিজ্ঞেস করল— এই ছবি কি তুমি এঁকেছ? উত্তর দিলেন পিকাসো— না। এসব এঁকেছ তোমরা।— মুশকিল হলো আমি মুখ ফুটে কথা বলতে পারি না। না হলে বলতাম লোকজনকে— যে-বিমর্ষতা দেখছ আমার কবিতায়, তার কারণ এক ভয়ংকর বোমারু বিমান। আমার শান্ত সবুজ নদী-বয়ে যাওয়া গ্রামটির ওপরে অহৃদয় বোমার পর বোমা ফেলে এ রকম তছনছ করে দিয়েছে যে— তাকে আমি চিনি। শুধু তার নাম আমি তোমাদের বলব না। পিকাসোর মতো সাহস নেই আমার। তখন শুধু সেই শ্যামল গ্রামটির স্মৃতি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে এত। তাই আমার কবিতায় আজকাল দ্যাখো এতবিমর্ষতা। আনন্দ কাকে বলে—আজ আর মনে নেই আমার। আমার সেই গ্রামে তাবত্ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শুধু একটি গাছ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যার ডালে একটিও পাখি বসে না আজ আর। যার কোনো ফুল ফোটে না। কোনো ফলও না। শুধু কী এক গভীর ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আমি সেই গাছ। সেই গাছ।

